'ছৈয়দ মওলা আলী (আ.)’র বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগ এনে প্রচারিত বক্তব্যের যুক্তি খন্ডন'
প্রবন্ধকার: ছৈয়দ মশিউর রহমান রাহাত
★ গাউছিয়া তারবিয়াতী নিসাব (প্রকাশনায়: আনজুমান এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, পৃষ্ঠা নং ৪৯৩ আর্টিকেল মন্দ চরিত্র) ★ বার মাসের আমল ও ফজিলত (প্রকাশক আলহাজ্ব রশীদ আহমদ) কিতাবদ্বয়ে লিখিত মওলা আলী (কর.) মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় মাগরিবের নামাযের ইমামতি করেছেন মর্মে উল্লখিত বিষয়ের পক্ষে জামেয়ার গ্রান্ড মুফতি কাজী আবদুল ওয়াজেদ ছাহেব, আঞ্জুমান রিচার্স সেন্টারের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান ছাহেব, জনাব নওশাদ নঈমী, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণী ও মাহফিলে মিজানুর রহমান আজাহারি'র প্রচারিত বক্তব্যের যুক্তি খন্ডনঃ-
আসুন জেনে নিই তাদের বক্তব্যের সারমর্ম।
(ক) মওলা আলী মদ খেয়েছেন।
(খ) মদ খেয়ে মাতলামি করেছেন অর্থাৎ উন্মাদ।
(গ) মদ খেয়ে মাতলামি করে মাগরিবের নামাজ ভুল করেছেন।
(ঘ) মদ খেয়ে মাতলামি করে নামাজে বলেছেন-হে কাফের মুশরিক তোমরা যে মূর্তি পূজা করো আমরাও সেই মূর্তি পূজা করি। অর্থাৎ মনের অজান্তেই শিরক গোনাহ করেছেন।
এখানে তার ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) কে শিরককারী হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন। আফসোস!
এবার আসুন জেনে নিই ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) সমন্ধে কোরআন ও হাদিস কি বলে?
৭০টি সহি হাদীস, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থ থেকে সংকলিত
০১. মুমিনদের মওলা
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ، اَللَّهُمَّ وَالِ مَنْ وَالَاهُ وَعَاِد مَنْ عَادَاهُ.
আমি যার মওলা আলীও তার মওলা। হে আল্লাহ! যে আলীকে ভালোবাসে তুমি তাকে ভালোবাস আর যে আলীর সাথে শত্রুতা করে তুমি তার সাথে শত্রুতা করো।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬০৯/৩২৯৫০, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১০৯, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১০৪, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ৪:১৭৩/৪০৫৩, তিরমিযী ৫:৬৩৩/৩৭১৩, মুসনাদে আহমাদ ১:৮৪, ৮৮, ১১৯, ১৫২, ৩৩১ ও ৪:২৮১, ৩৬৮, ৩৭০, ৩৭২ ও ৫:৩৪৭, ৩৫৮, ৩৬১, ৩৬৬, ৪১৯)
০২. মহানবী (দ.)'র থেকে
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أنْتَ مِنِّي وَ أَنَا مِنْكَ.
তুমি আমা থেকে আর আমি তোমা থেকে।
(সহীহ বুখারী ৪:২২, ৫:৮৭, সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৫/৩৭১৬, মাসাবিহুস সুন্নাহ ৪:১৭২/৪৭৬৫ ও ১৮৬/১০৪৮, তারীখে বাগদাদ ৪:১৪০)
০৩. মহানবী (দ.)'র একই বংশধারা
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَنَا وَ عَلِيٌّ مِنْ شَجَرَةٍ وَاحِدَةٍ، وَ النَّاسُ مِنْ أشْجَارٍ شَتَّي.
আমি আর আলী একই বৃক্ষ থেকে, আর অন্যেরা (মানুষ) বিভিন্ন বৃক্ষ থেকে।
(আল মানাকিব – ইবনে মাগাযেলী :৪০০/৫৩, কানযুল উম্মাল ১১:৬০৮/ ৩২৯৪৩, আল ফেরদৌস ১: ৪৪/১০৯, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১০০)
০৪. আলী (কর.)'র সহচরদের জন্য দোয়া
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
اَللّهُمَّ انْصُرْ مَنْ نَصَرَ عَلِيّاً، اَللَّهُمَّ أَكْرِمْ مَنْ أَكْرَمَ عَلِيّاً ، اَللَّهُمَّ أخْذُلْ مَنْ خَذَلَ عَلِيّاً.
হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আলীকে সাহায্য করে তুমি তাকে সাহায্য করো, যে ব্যক্তি তাকে সম্মান করে তুমি তাকে সম্মান করো আর যে তাকে লাঞ্ছিত করে তুমি তাকে লাঞ্ছিত করো।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬২৩/৩৩০৩৩, আল মু’জামুল কাবীর – তাবারানী ১৭:৩৯,৮২)
০৫. তোমাকে যারা ভালোবাসে তাদের প্রতি সুসংবাদ
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
يا عَلِيّ، طُوبَي لِمَنْ أَحَبَّكَ وَ صَدَّقَ فِيكَ وَ وَيْلٌ لِمَنْ أَبْغَضَكَ وَ كَذَّبَ فِيكَ.
হে আলী! সুসংবাদ তার প্রতি যে তোমাকে ভালোবাসে এবং তোমাকে সত্য বলে জানে। আর দুর্ভাগ্য তাদের প্রতি যারা তোমার সাথে শত্রুতা করে এবং তোমার ব্যাপারে মিথ্যা আরোপ করে।
(তারীখে বাগদাদ ৯:৭২, ওয়াসীলাতুল মুতাআবেবদীন খ:৫, আল কিস্ম ২:১৬১, উসুদুল গবাহ ৪:২৩)
০৬. ইবাদতের সারসত্য
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
ذِكْرُ عَلِيٍّ عِبَادَةٌ.
আলীকে স্মরণ করা ইবাদততুল্য।
(কানযুল উম্মাল ১১, ৬০১/৩২৮৯৪, আল ফেরদৌস ২:২৪৪/৩১৫১, ওসীলাতুল মুতাআবেবদীন খ: ৫ আল কাসাম ২:১৬৮)
০৭. মজলিসের সৌন্দর্য
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
زَيِّنُوا مَجَالِسَكُمْ بِذِكْرِ عَلِيٍّ.
তোমাদের মজলিসগুলোকে আলীর নাম উচ্চারণের মাধ্যমে সৌন্দর্যমন্ডিত করো।
(আল মানাকিব – ইবনুল মাগাযেলী : ২১১/২৫৫)
০৮. সর্বদা সত্যের সাথে
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
رَحِمَ اللهُ عَلِيّاً ، اَللَّهُمَّ أَدِرِ الْحَقَّ مَعَهُ حَيْثُ دَارَ.
আল্লাহ আলীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন! হে আল্লাহ! আলী যেখানেই আছে সত্যকে তার সাথে ঘোরাও।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২৪, সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৩/৩৭১৪, ইমাম আলী (আঃ) – ইবনে আসাকির, ৩:১৫১/১১৬৯-১১৭০)
০৯. নিরাপত্তা এবং ঈমান
রাসূলুল্লাহ (দ.) হযরত আলী (কর.) কে বলেনঃ
مَنْ أَحَبَّكَ حُفَّ بِالاَمْنِ وَ الْإِيمَانِ، وَ مَنْ أَبْغَضَكَ أَمَاتَهُ اللهُ مِيْتَةَ الْجَاهِلِيَّةِ.
যে ব্যক্তি তোমাকে ভালোবাসবে, নিরাপত্তা ও ঈমান তাকে আবিষ্ট করবে। আর যে তোমার প্রতি শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে জাহেলিয়াতের মৃত্যু দান করবেন।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬০৭/৩২৯৩৫, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ১১:৬৩/১১০৯২)
১০. মুমিনদের অভিভাবক
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
إنَّ عَلِيّاً وَلِيُّكُمْ بَعْدِي.
নিশ্চয় আলী আমার পরে তোমাদের অভিভাবক।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১২/৩২৯৬৩, আল ফেরদৌস ৫:২৯২/৮৫২৮)
১১. মুমিনদের কর্তৃত্বের অধিকারী
রাসূলুল্লাহ (দ.) ইমাম আলীকে বলেনঃ
أنْتَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤمِنٍ وَ مُؤمِنَةٍ بَعْدِي.
আমার পরে তুমি প্রত্যেক মুমিন নর ও নারীর ওপর কর্তৃত্বের অধিকারী।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৪, আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১২:৭৮/১২৫৯৩)
১২. পাপ ধ্বংসকারী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
حُبُّ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ يَأْكُلُ الذُّنُوبَ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ.
আলী ইবনে আবি তালিবের ভালোবাসা পাপসমূহকে খেয়ে ফেলে যেভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।
(আর রিয়াদুন্ নাদরাহ ৩: ১৯০, কানযুল উম্মাল ১১:৬২১/৩৩০২১, আল ফেরদৌস ২:১৪২/২৭২৩)
১৩. অন্তরসমূহের কা’বাস্বরূপ
রাসূলুল্লাহ (দ.) ইমাম আলী (কর.) কে বলেনঃ
أَنْتَ بِمَنْزِلَةِ الْكَعْبَةِ تُؤْتَي وَ لَاتَأتِي.
তুমি কা’বার ন্যায়। সবাই তোমার কাছে আসে কিন্তু তুমি কারো কাছে যাও না।
(উসুদুল গবাহ ৩১৪৬)
১৪. তার দিকে তাকাও…
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
َالنَّظَرُ إِلَي وَجْهِ عَلِيٍّ عِبَادَةٌ.
আলীর মুখের দিকে তাকানো ইবাদত।
(আল মানাকিব- ইবনে মাগাযেলী ২০৬/২৪৪-২৪৬ ও ২০৯/২৪৮-২৪৯ ও ২১০/২৫২-২৫৩, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৪২, আর রিয়াদুন্ নাদ্রাহ ৩:১৯৭)
১৫. রাসূলুল্লাহ (দ )'র ওয়াসী
রাসূলুল্লাহ (দ ) হযরত আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ
هَذَا أَخِي وَ وَصِيِّي وَ خَلِيفَتِي مِنْ بَعْدِي، فَاسْمَعُوا لَهُ وَ أَطِيعُوه.
এ হলো আমার ভাই, আর আমার পরে আমার ওয়াসী এবং খলীফা। তার নির্দেশের প্রতি কর্ণপাত করো এবং তার আনুগত্য করো।
(তারীখে তাবারী ২:৩৩১, মাআলিমুত তানযীল ৪:২৭৯, আল কামিল ফিত তারীখ ২:৬৩, শারহে নাহজুল বালাগা – ইবনে আবিল হাদীদ ১৩:২১১, কানযুল উম্মাল ১৩:১৩১)
১৬. ফেরেশতাকুলের দরূদ
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
إنَّ الْمَلَائِِكَةَ صَلَّتْ عَلَيَّ و عَلَي عَلِيٍّ سَبعَ سِنِيْنَ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ بَشَرٌ.
কোনো মানুষ মুসলমান হওয়ার সাত বছর পূর্ব থেকেই ফেরেশতারা আমার এবং আলীর ওপর দরূদ পাঠাতো।
(কানযুল উম্মাল ১১: ৬১৬/৩২৯৮৯, মুখতাসারু তারীখে দামেস্ক -ইবনে মাঞ্জুর ১৭:৩০৫)
১৭. ঈমানের মানদন্ড
রাসূলুল্লাহ (দ.) আলী (কর.) কে বলেনঃ
لَوْلَاكَ مَا عُرِفَ الْمُؤمِنُونَ مِنْ بَعْدِي.
যদি তুমি না থাকতে তাহলে আমার পরে মুমিনদের শনাক্ত করা যেত না।
(আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১৭৩, আল মানাকিব- ইবনুল মাগাযেলী :৭০/১০১, কানযুল উম্মাল ১৩ :১৫২/৩৬৪৭৭)
১৭. সর্বদা সত্যের সাথে
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ مَعَ الْحَقِّ وَ الْحَقُّ مَعَ عَلِيٍّ، لَنْ يَفْتَرِقَا حَتَّي يَرِدَا عَلَيَّ الْحَوضِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
আলী সত্যের সাথে আর সত্য আলীর সাথে, এই দুটো কখনো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না কেয়ামতের দিন হাউজে কাওসারে আমার সাথে মিলিত হবে।
(তারীখে বাগদাদ ১৪:৩২১, ইমাম আলী (আঃ) – ইবনে আসাকির ৩:১৫৩/১১৭২)
১৯. তাঁর থেকে পৃথক হয়ো না!
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
مَنْ فَارَقَ عَلِيّاً فَقَدْ فَارَقَنِي وَ مَنْ فَارَقَنِي فَقَدْ فَارَقَ اللهَ عَزَّوَجَلَّ.
যে ব্যক্তি আলী থেকে পৃথক হয় সে আমা থেকে পৃথক হলো আর যে আমা থেকে পৃথক হলো সে মহান আল্লাহ থেকে পৃথক হয়ে গেল।
(আল মানাকিব- ইবনে মাগাযেলী ২৪০/২৮৭, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২৪, আল মু’জামুল কাবীর- তাবারানী ১২:৩২৩/১৩৫৫৯)
২০. রাসূলুল্লাহ (দ.)'র প্রাণ
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
إِنَّ عَلِيّاً مِنِّي، وَ أََنَا مِنْهُ، وَ هُوَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤمِنٍ بَعْدِي.
নিশ্চয় আলী আমা থেকে আর আমি আলী থেকে। আর সে আমার পরে সকল মুমিনের নেতা।
(খাসায়েসে নেসায়ী :২৩, মুসনাদে আহমাদ ৪:৪৩৮, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী
১৮: ১২৮/২৬৫, হিল্লীয়াতুল আউলিয়া ৬:২৯৬)
২১. রাসূলুললাহ (দ.)'র গোপন রহস্যের আধার
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
صَاحِبُ سِرِّي عَلِيُّ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ.
আলী আমার গোপন রহস্যকথার একমাত্র আধার
(আল ফেরদৌস ২:৪০৩/৩৭৯৩, আল ইমাম আলী (আঃ) – ইবনে আসাকির ২:৩১১/৮২২)
২২. রাসূলুল্লাহ (দ.)'র জ্ঞানের ভান্ডার
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ خَازِنُ عِلْمِي.
আলী আমার জ্ঞানের ভান্ডার।
(শারহে নাহজুল বালাগা – ইবনে আবিল হাদীদ ৯:১৬৫)
২৩. সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ.
আলী সৃষ্টিকুলের সেরা।
(আল ইমাম আলী (আঃ) – ইবনে আসাকির ২:৪৪৩/৯৫৯, মানাকিবে খারেযমী : ৬২)
২৪. মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ خَيْرُ الْبَشَرِ، مَنْ أَبَي فَقَدْ كَفَرَ.
আলী সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, যে তা মানবে না সে নিঃসন্দেহে কাফের।
(সিয়ারু আ’লামুন নুবালা ৮:২৫০, ইমাম আলী (আঃ)-ইবনে আসাকির ২:৪৪৪/৯৬২-৯৬৬, তারীখে বাগদাদ ৭:৪২১)
২৫. জ্ঞানের আধার
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ عَيْبَةُ عِلْمِي.
আলী আমার জ্ঞানের আধার।
(আল জামেউস্ সাগীর ২:১৭৭, শারহে নাহজুল বালাগা – ইবনে আবিল হাদীদ ৯:১৬৫)
২৬. সর্বদা কুরআনের সাথে
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ مَعَ الْقُرْآنِ وَ الْقُرْآنُ مَعَ عَلِيٍّ.
আলী কুরআনের সাথে আর কুরআন আলীর সাথে।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২৪, কানযুল উম্মাল ১১:৬০৩/৩২৯১২)
২৭. আল্লাহর নিকটে
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ مِنِّيكَمَنْزِلَتِي مِنْ رَبِّي.
আমার নিকটে আলীর মর্যাদা হলো যেমন আমার প্রতিপালকের নিকটে আমার মর্যাদা।
(আস সাওয়ায়িকুল মুহরিকা :১৭৭, যাখায়িরুল উক্বা : ৬৪)
২৮. রাসূলুল্লাহ (দ.)'র নিকটে
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ رَأسِي مِنْ بَدَني.
আমার নিকটে আলী আমার শরীরে যুক্ত আমার মাথার ন্যায়।
(তারীখে বাগদাদ ৭:১২, কানযুল উম্মাল ১১:৬০৩/৩২৯১৪)
২৯. রাসূলুল্লাহ (দ.)'র সাহায্যকারী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
لَمَّا عُرِجَ بِي رَأَيْتُ عَلَي سَاقِ الْعَرْشِ مَكْتُوباً: لَا إِِلَهَ إِِلَّا اللهُ، مُحَمَّدٌرَسُولُ اللهِ، أَيَّدْتُهُ بِعَلِيٍّ، نَصَرْتُهُ بِعَلِيٍّّ.
যখন আমাকে মি’রাজে নিয়ে যাওয়া হয় তখন আরশের পায়ায় দেখলাম লেখা রয়েছে ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ। আমি তাকে আলীকে দ্বারা শক্তিশালী করেছি এবং আলীকে তার সাহায্যকারী করে দিয়েছি।
(তারীখে বাগদাদ ১১:১৭৩, ওয়াসীলাতুল মুতাআবেবদীন খ:৫ আল কিস্ম ২:১৬৩, আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১৩১, যাখায়েরুল উকবা : ৬৯)
৩০. আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা
আনাস ইবনে মালেক বলেন, রাসূলুল্লাহ (দ.)'র জন্য মুরগীর গোশত দ্বারা খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল। হুজুর (দ.) বললেনঃ
اَللَّهُمَّ ائْتِنِي بِاَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُ مَعِي هَذَا الطَّيْرَ، فَجَاءَ عَلِيٌّ فَأَكَلَ مَعَهُ.
হে আল্লাহ! তোমার সবচেয়ে প্রিয় বান্দাকে পৌঁছে দাও যে আমার সাথে এই মুরগীর গোশত ভক্ষণে অংশ নেবে। এমন সময় আলী এসে পৌঁছলেন এবং হুজুরের দস্তরখানায় বসে পড়লেন।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৬/৩৭২১, ফাযায়িলুস সাহাবা ২:৫৬০/৯৪৫, খাসায়েসে নাসায়ী : ৫, আল মুস্তাদরাক – হাকেম ৩:১৩০-১৩২)
৩১. হেদায়াতের পতাকা
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
إِنَّ رَبَّ الْعَالَمِيْنَ عَهِدَ إِلَيَّ عَهْداً فِي عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، فَقَالَ: إنَّهُ رَايَةُ الْهُدَي، وَ مَنارُ الْاِيْمَانِ، وَ اِمَامُ أَوْلِيَائِي، وَ نُورُ جَمِيعِ مَنْ أَطَاعَنِي.
বিশ্ব প্রতিপালক আলীর ব্যাপারে আমার সাথে কঠিনভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন। অতঃপর আমাকে বলেছেন: নিশ্চয় আলী হলো হেদায়েতের পতাকা, ঈমানের শীর্ষচূড়া, আমার বন্ধুগণের নেতা আর আমার আনুগত্যকারী সকলের জ্যোতিস্বরূপ।
(হিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৬, শারহে নাহজুল বালাগা – ইবনে আবীল হাদীদ ৯:১৬৮)
৩২. রাসূলুল্লাহ (দ )'র উত্তরসূরি
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
لِكُلِّ نَبِيٍّ وَصِيٌّ وَ وَارِثٌ، وَ إَِنَّ عَلِيّاً وَصِيِّي وَ وَارِثِي.
প্রত্যেক নবীর ওয়াসী এবং উত্তরসূরি থাকে। আর আমার ওয়াসী এবং উত্তরসূরি হলো আলী।
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১৩৮, আল ফেরদৌস ৩:৩৩৬/৫০০৯, ইমাম আলী (আঃ) – ইবনে আসাকির ৩: ৫/১০৩০-১০৩১)
৩৩. সত্যিকারের সৌভাগ্য
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
إنَّ السَّعِيدَ كُلَّ السَّعِيدِ، حَقَّ السَّعِيدِ، مَنْ أحَبَّ عَلِيّاً فِي حَيَاتِهِ وَ بَعْدَ مَوتِهِ.
নিশ্চয় সবচেয়ে সৌভাগ্যবান এবং সত্যিকারের সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে আলীকে তার জীবদ্দশায় এবং তার মৃত্যুর পরে ভালোবাসে।
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১৯১, ফাযায়িলুস সাহাবা ২:৬৫৮/১১২১, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ২২: ৪১৫/১০২৬, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১৩২)
৩৪. রাসূলুল্লাহ (দ.)'র সাথে
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
أَبْشِرْ يَا عَلِيُّ، حَيَاتُكَ مَعِي وَ مَوتُك مَعِي.
হে আলী! সুসংবাদ তোমার ওপর। তোমার জীবন আমার সাথে আর তোমার মরণও আমার সাথে।
(ইমাম আলী (আঃ)-ইবনে আসাকির ২:৪৩৫, ৯৪৭, মাজমাউয যাওয়াযেদ ৯:১১২, কানযুল উম্মাল ১৩: ১৪৪/৩৬৪৫৩)
৩৫. সর্বপ্রথম নামাযী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أََوَّلُ مَنْ صَلَّي مَعِي عَلِيٌّ.
সর্বপ্রথম আমার সাথে যে নামায পড়েছে সে হলো আলী।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৬/৩২৯৯২, আল ফেরদৌস ১:২৭/৩৯)
৩৬. শ্রেষ্ঠতম পুরুষ
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
خَيْرُ رِجَالِكُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ.
আলী ইবনে আবি তালিব তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম পুরুষ।
(তারীখে বাগদাদ ৪:৩৯২, মুন্তাখাবু কানযুল উম্মাল ৫:৯৩)
৩৬. উম্মতের পিতা
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
حَقُّ عَلِيٍّ عَلَي الْمُسْلِمِينَ حَقُّ الوَالِدِ عَلَي الْوَلَدِ.
মুসলমানদের ওপর আলীর অধিকার, সন্তানের ওপর পিতার অধিকারের ন্যায়।
(আর রিয়াদুন্ নাদরাহ ৩:১৩০, ইমাম আলী – ইবনে আসাকির ২:২৭২/৭৯৮-৭৯৯)
৩৭. তাকে কষ্ট দিও না
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
مَنْ آذَي عَلِيّاً فَقَدْ آذَانِي.
যে ব্যক্তি আলীকে কষ্ট দেয় সে আমাকে কষ্ট দেয়।
(মুসনাদে আহমাদ ৩:৪৮৩, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২২, দালায়িলুন নব্যুওয়াত ৫:৩৯৫, আল ইহ্সান- ইবনে হাববান ৯:৩৯/৬৮৮৪)
৩৯. আল্লাহর অস্তিত্বে মিশে আছে
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
لَاتَسُبُّوا عَلِيّاً، فَإِنَّهُ مَمْسُوسٌ فِي ذَاتِ اللهِ.
তোমরা আলীকে গালমন্দ করো না। সে আল্লাহর সত্তায় মিশে গেছে্
(আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ১৯:১৪৮/৩২৪, হিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৮, কানযুল উম্মাল ১১:৬২১/৩৩০১৭)
৪০. মুনাফিকরা তাঁকে ভালোবাসে না
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
لَا يُحِبُّ عَلِيّاً مُنَافِقٌ، وَ لاَ يُبْغِضُهُ مُؤمِنٌ.
মুনাফিকরা আলীকে ভালোবাসে না, আর মুমিন তাঁকে ঘৃণা করে না।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৫/৩৭১৭, আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১৮৯)
৪১. রাসূলুল্লাহ (দ.)"র হক (অধিকার) পূরণকারী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ مِنِّي وَ أَنَامِنْ عَلِيٍّ، وَلَا يُؤَدِّي عَنِّي إِلَّا أَنَا أَوْ عَلِيٌّ.
আলী আমা থেকে আর আমি আলী থেকে, আমি আর আলী ব্যতীত কেউই আমার (রেসালাতের) অধিকার পূরণ করেনি।
(মাসাবিহুস সুন্নাহ ৪:১৭২/৪৭৬৮, সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৬/৩৭১৯, মুসনাদে আহমাদ ৪:১৬৪)
৪২. মুসলমানদের সরদার
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ سَيِّدُ الْمُسْلِمِينَ، وَ إِمَامُ الْمُتَّقِينَ، وَ قَائِدُ الْغُرِّ الْمُحَجَّلِينَ.
আলী মুসলমানদের সরদার, পরহেযগারদের নেতা এবং সফলকামদের পথ প্রদর্শক।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৮, আল মানাকিব-ইবনুল মাগাযেলী ১০৪/১৪৬)
৪৩. নাজাত দানকারী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
حُبُّ عَلِيٍّ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ.
আলীর প্রতি ভালোবাসা আগুন থেকে মুক্তির কারণ।
(আল ফেরদৌস ২:১৪২/২৭২৩)
৪৪. ঈমানে সর্বাপেক্ষা অবিচল
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ الصِّدِّيقُ الْاَكْبَرُ، وَ فَارُوقُ هَذِهِ الْاُمَّةِ، وَ يَعْسُوبُ الْمُؤْمِنِينَ.
আলী ঈমানে সর্বাপেক্ষা দৃঢ়পদ, উম্মতের মধ্যে হক ও বাতিলে পার্থক্যকারী আর মুমিনদের কর্তা।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৬/৩২৯৯০, আল মু’জামুল কাবীর-তাবারানী ৬:২৬৯/৬১৮৪)
৪৫. তাঁকে অভিসম্পাত করো না
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
مَنْ سَبَّ عَلِيّاً فَقَدْ سَبَّنِي.
যে ব্যক্তি আলীকে গালমন্দ করে সে যেন আমাকেই গালি দিল।
(মুখতাসারু তারীখে দামেস্ক – ইবনে মাঞ্জুর ১৭:৩৬৬, ফাযায়েলুস সাহাবা ২:৫৯৪/১০১১, খাসায়েসে নাসায়ী :২৪, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২১, মানাকিবে খারেযমী : ৮২)
৪৬. আল্লাহর রাস্তায় কঠোরতা
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَيُّهَا النَّاسُ، لَا تَشْكُوا عَلِيّاً، فَو اللهِ إِنَّهُ لَأَخْشَنُ فِيذَاتِاللهِ، أَوْ فِي سَبِيلِ اللهِ.
হে লোকসকল! আলীর বিরুদ্ধে নালিশ করতে যেও না। সে আল্লাহর কারণে অথবা তাঁর সন্তুষ্টির জন্যেই কঠোর হয়।
(মুসনাদে আহমাদ ৩:৮৬, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩৪)
৪৭. রাসূলুল্লাহ (দ )"র নজির
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا وَ لَهُ نَظِيرٌ فِي اُمَّتِهِ وَ عَلِيٌّ نَظِيرِي.
এমন কোনো নবী নেই যার উম্মতের মধ্যে তাঁর দৃষ্টান্ত কেউ ছিল না। আর আমার দৃষ্টান্ত হলো আলী ইবনে আবি তালিব।
(আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১২০, যাখায়েরুল উকবা: ৬৪)
৪৮. মহানবী (দ )'র জ্ঞানের দরওয়াযা
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ بَابُ عِلْمِي، وَ مُبَيِّنُ لِاُمَّتِي مَا اُرْسِلْتُ بِهِ مِنْ بَعْديِ، حُبُّهُ اِيمَانٌ، و بُغْضُُهُ نِفَاقٌ وَ النَّظَرُ اِلَيْهِ رَأْفَةٌ.
আলী আমার জ্ঞানের দরওয়াযা। সে আমার পরে আমার রেসালাতকে আমার উম্মতের জন্যে ব্যাখ্যা করবে। তাকে ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক, তাকে ঘৃণা করা মুনাফিকের পরিচায়ক এবং তার দিকে তাকানো প্রশান্তির কারণ।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৪/৩২৯৮১, আল ফেরদৌস ৩:৬৫/৪১৮১)
৪৯. আল্লাহর গোপন রহস্য ব্যক্তকারী
হযরত জাবের (রা.) বলেনঃ তায়েফের দিন রাসূলুল্লাহ (দ.) হযরত আলীকে কাছে ডাকলেন। তাঁকে একপাশে নিয়ে কানে কানে যুক্তি করলেন। লোকজন বললো, ‘‘তাঁর চাচাতো ভাইয়ের সাথে যুক্তি করা কতো দীর্ঘায়িত হলো!’’ রাসূলুল্লাহ (দ.) বললেন :
مَا اَنْتَجَيْتُهُ ، وَلَكِنْ اللهَ انْتَجَاهُ.
আমি তাঁর সাথে যুক্তি করিনি, বরং আল্লাহ তাঁর সাথে যুক্তি করেছেন।
(আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১৭০, সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৯/৩৭২৬, খাসায়েসে নাসায়ী :৫, ফাযায়েলূস সাহাবা ২:৫৬০/৯৪৫, আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১৩০-১৩২)
৫০. তোমার জন্য সেটাই চাই!
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
يَا عَلِيُّ! إِنِّي اُحِبُّ لَكَ مَا اُحِبُّ لِنَفْسِي، وَ أَكْرَهُ لَكَ مَا أَكْرَهُ لِنَفْسِي.
হে আলী! আমি নিজের জন্যে যা পছন্দ করি তোমার জন্য সেটাই পছন্দ করি। আর আমার চোখে যা অপছন্দনীয় তোমার জন্যও সেটা অপছন্দ করি।
(মুসনাদে আহমাদ ১:১৪৬, সুনানে তিরমিযী ২:৭২/২৮২, আল মুনাতাখাবু মিন মুসনাদে আব্দু ইবনে হামীদ :৫২/৬৭)
৫১. বেহেশত-দোযখের বণ্টনকারী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
يَا عَلِيُّ، إِنَّكَ قَسِيمُ الْجَنَّةِ وَ النَّارِ وَ إِنَّكَ تَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ، فَتَدْخُلَهَا بِلَا حِسَابٍ.
হে আলী! তুমি (মানুষকে) বেহেশত ও দোযখের (মধ্যে) বণ্টনকারী। অতঃপর তুমি নিজে বেহেশতের দরওয়াযায় টোকা দিবে এবং হিসাব ছাড়াই প্রবেশ করবে।
(আল মানাকিব- ইবনুল মাগাযেলী ৬৭/৯৭, আল মানাকিব-খারেযমী : ২০৯, ফারায়িদুস সামতাঈন ১:৩২৫/২৫৩)
৫২. ওয়াসিগণের মধ্যে সর্বোত্তম
রাসূলুল্লাহ (দ.) হযরত ফাতিমাকে বলেনঃ
وَصِيِّي خَيْرُ الْأَوْصِيَاءِ، وَ أَحَبُّهُمْ إِلَي اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَ هُوَ بَعْلُكَ.
ওয়াসিগণের মধ্যে আমার ওয়াসীই সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নিকটে তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়তম। আর সে হলো তোমার স্বামী।
(মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১৬৫, যাখায়িরুল উকবা :১৩৬)
৫৩. মহানবী (দ.)'র ভাই ও সহযোগী
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
اَللَّهُمَّ إنِّيأَقُولُكَمَاقَالَأَخِيمُوسَي: اَللَّهُمَّ اجْعَلْ لِيوَزِيراً مِنْ أَهْلِيأَخِيعَلِيّاً اُشْدُدْ بِهِ أزْرِي وَ أَشْرِكْهُ فِيأَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيراً وَ نَذْكُرَكَ كَثيراً، إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيراً.
হে আল্লাহ! আমিও আমার ভাই মুসার মতো বলছি, ‘‘হে খোদা! আমার জন্য আমার পরিবারের মধ্যে থেকে কাউকে সাহায্যকারী হিসেবে নিয়োগ করো। আমার ভাই আলীকে যার দ্বারা আমার শক্তি মজবুত হয়
এবং আমাকে সাহায্য করে। যাতে তোমার মহিমা বর্ণনা করতে সক্ষম
হই এবং তোমার অধিক ইবাদতে নিমগ্ন হতে পারি । অবশ্য তুমি আমাদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী।
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১১৮, ফাযায়িলুস সাহাবা ২:৬৭৮/১১৫)
৫৪. সীরাতুল মুস্তাকীম পার হওয়ার অনুমতি
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ وَ نُصِبَ الصِّرَاطُ عَلَي شَفِيرِ جَهَنَّم لَمْ يَجُزْ إلاَّ مَنْ مَعَهُ كِتَابُ عَلِيّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.
যখন কেয়ামত উপস্থিত হবে এবং জাহান্নামের অগ্নিপার্শ্বে পুলসিরাত টাঙ্গানো হবে তখন শুধু কেবল যার সঙ্গে আলী (আঃ)-এর পত্র থাকবে সে ছাড়া কারো তা পার হবার অনুমতি থাকবে না।
(আল মানাকিব-ইবনুল মাগাযেলী ২৪২, ২৮৯, ফারায়িদুস সামতাইন ১:২২৮, ২৮৯)
৫৫. মুমিনদের আমলনামার শিরোনাম
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عُنْوَانُ صَحِيفَةِ الْمُؤمِنِ حُبُّ عَلِيِّ بْنِ أََبِي طَالِبٍ.
মুমিনের আমলনামার শিরোনাম হলো আলী ইবনে আবি তালিবের ভালোবাসা।
(আল মানাকিব – ইবনে মাগাযেলী: ২৪৩/২৯০, কানযুল উম্মাল ১১:৬০১/৩২৯০০, তারীখে বাগদাদ : ৪:৪১০)
৫৬. আরবের সরদার
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَنَا سَيِّدُ وُلْدِ آدَم، وَ عَلِيٌّ سَيِّدُ الْعَرَبِ.
আমি আদম সন্তানদের সরদার আর আলী আরবদের সরদার।
(আল মু’জামুল আওসাত-তাবারানী ২:২৭৯/১৪৯১, ইমাম আলী (আঃ) (অনুবাদ)- ইবনে আসাকির ২:২৬২/৭৮৯, কানযুল উম্মাল-১১-১৮/৩৩০০৬)।
৫৭. হিকমতের দরজা
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَنَا دَارُ الْحِكْمَةِ، وَ عَلِيٌّ بَابُهَا.
আমি হিকমতের গৃহ আর আলী তার দরজা।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৭/৩৭২৩, হিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৪, আল জামিউস্ সাগীর ১:৪১৫/২৭০৪)
৫৮. জ্ঞানের নগরীর তোরণ
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَنَا مَدِينَةُ الْعِلْمِ وَ عَليُّ بَابُهَا، فَمَنْ أَرَادَ الْمَدِينَةَ فَلْيَأتِ البَابَ.
আমি সমস্ত জ্ঞানের নগরী আর আলী তার তোরণ। কাজেই যে এই নগরীতে প্রবেশ করবে তাকে তোরণ বা দ্বারের মধ্য দিয়ে আসতে হবে।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২৬-১২৭, জামেউল উসুল ৯:৪৭৩/৬৪৮৯, উসুদুল গবাহ্ ৪:২২, তারীখে বাগদাদ ১১:৪৯-৫০, আল বেদায়াহ্ ওয়ান নেহায়া ৭:৩৭২, আল জামেউস্ সাগীর ১:৪১৫/২৭০৫)
৫৮. উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَعْلَمُ اُمَّتِي مِنْ بَعْدِي عَلِیُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ.
আমার পরে আলী হলো আমার উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৪/৩২৯৭৭, আল ফেরদৌস ১:৩৭০/১৪৯১)
৬০. মহানবী (দ.)'র ভাই
রাসূলুল্লাহ (দ.) ইমাম আলীকে বলেনঃ
أَنْتَ أَخِي فِي الدُّنْيَا وَ الْاَخِرَة.
তুমি দুনিয়া এবং পরকালে আমার ভাই।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৩৬/৩৭২০, আর রিয়াদুন নাদ্রাহ ৩:১২৪)
৬১. রাসূলুল্লাহ্ (দ.)-এর মনোনীত
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَمَّا أَنْتَ يَا عَلِيّ، أَنْتَ صَفِيِّي وَ أمِينِي.
আর তুমি হে আলী! তুমি আমার মনোনীত এবং আমার আমানতদার।
(খাসায়েসে নাসায়ী : ১৯, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৯:১৫৬)
৬২. মহানবী (দ.)'র স্থলাভিষিক্ত
হুজুর (সাঃ) হযরত আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ
إِنَّ هَذَا أَخِي وَ وَصِيِّي وَ خَلِيفَتِي فِيكُمْ، فَاسْمَعُوا لَهُ وَ أَطِيعُوه.
জেনে রেখো যে, সে তোমাদের মাঝে আমার ভাই, উত্তরসূরি এবং স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে।
(তারীখে তাবারী ২:২১৭, আল কামিল ফিত্ তারীখ ২:৬৪, মাআলিমুত্ তানযীল ৪:২৭৮)
৬৩. বিচারের সিংহাসনে
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَقْضَي اُمَّتِي عَليُّ.
আলী আমার উম্মতের মাঝে সর্বাপেক্ষা বিচক্ষণ বিচারক
(আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১৬৭, মানাকিবে খারেযমী ৩০, যাখায়িরুল উকবা ৮৩)
৬৪. উম্মতের জন্য হুজ্জাত বা দলিল
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أَنَا وَ عَلِيٌّ حُجَّةٌ عَلَي أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
কেয়ামতের দিন আমি এবং আলী আমার অনুসারীদের জন্য হুজ্জাত (দলিল) এবং পথপ্রদর্শনকারী।
(তারীখে বাগদাদ ২:৮৮)
৬৫. উম্মতের হেদায়াতকারী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
أنَا الْمُنْذِرُ وَ عَلِيٌّ الْهَادِي، بِكَ يَا عَلِيُّ يَهْتَدِي الْمُهْتَدُونَ.
আমি হলাম সাবধানকারী। আর হে আলী! তোমার মাধ্যমে পথ অন্বেষণকারীরা পথ খুঁজে পাবে।
(তাফসীরে তাবারী ১৩:৭২, ইমাম আলী (আঃ) (অনুবাদ)- ইবনে আসাকির ২:৪১৭/৯২৩)
৬৬. জাতির পথ-প্রদর্শক
রাসূলুল্লাহ (দ.) ইমাম আলীকে বলেনঃ
أنْتَ تُبَيِّنُ لِأُمَّتِي مَا اخْتَلَفُوا فِيهِ بَعْدِي.
আমার পরে আমার উম্মত যে বিষয়ে মতবিরোধ করবে তুমি তার সমাধান দান করবে।
(আল মুস্তাদরাক-হাকেম ৩:১২২, কানযুল উম্মাল ১১:৬১৫/৩২৯৮৩, আল ফেরদৌস ৫:৩৩২/৮৩৪৯, হিল্লিয়াতুল আউলিয়া ১:৬৪)
৬৭. আদর্শের পথে শহীদ
রাসূলুল্লাহ (দ.) ইমাম আলীকে বলেনঃ
أنْتَ تَعِيْشُ عَلَي مِلَّتِي، وَ تُقْتَلُ عَلَي سُنَّتِي.
তুমি আমার পন্থায় জীবন যাপন করবে, আর আমার আদর্শের পথেই শাহাদাত বরণ করবে।
(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৭/৩২৯৯৭, আল মুস্তাদরাক-হাকেম :৩/১৪২)
৬৮. মহানবী (দ)'র হারুন
রাসূলুল্লাহ (দ ) ইমাম আলী (কর.) কে বলেনঃ
أنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَي إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدي.
আমার নিকট তুমি মুসার কাছে হারুনের ন্যায়। শুধু আমার পরে কোনো নবী নেই।
(সুনানে তিরমিযী ৫:৬৪১/৩৭৩০, মাসাবিহুস্ সুন্নাহ ৪:১৭০/৪৭৬২, সহীহ মুসলিম ৪:৪৪/৩০)
৬৯. কেয়ামতের দিন বিজয়ী
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ وَ شِيعَتُهُ هُمُ الْفَائِزُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
আলী এবং তাঁর অনুসারীরা নিঃসন্দেহে কেয়ামতের দিন বিজয়ী।
(আল ফেরদৌস ৩:৬১/৪১৭২, ওয়াসীলাতুল মুতাআবেবদীন খ:৫, আল কিস্ম ২:১৭০)
৭০. বেহেশতের তারকা
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেনঃ
عَلِيٌّ يَزْهَرُ فِي الْجَنَّةِ كَكَوْكَبِ الصُّبْحِ لِأَهْلِ الدُّنْيَا.
আলী বেহেশতের মধ্যে দুনিয়াবাসীর জন্য ভোরের তারকার ন্যায় উজ্জ্বল।
(আল ফেরদৌস ৩:৬৩/৪১৭৮, কানযুল উম্মাল ১১:৬০৪/৩২৯১৭)
রাসূল পাক (দ.) বলেন,
১- "ওহে আলী মোনাফেক কখনো তোমাকে ভালোবাসবে না এবং ঈমানদার কখনো তোমার বিদ্বেষ পোষণ করবে না"। (তিরমিজি শরিফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং ২১৩ )।
২- "হে আম্মার! যদি দেখতে পাও যে আলী একপথে চলছে আর লোকেরা অন্যপথে চলছে। তাহলে তুমি আলীর সাথে চলবে এবং ঐসব লোকদেরকে ত্যাগ করবে। কারন, আলী কখনো তোমাকে বাঁকা পথে পরিচালিত করবে না এবং তোমাকে হেদায়েতের পথ থেকে বাইরে নিয়ে যাবে না"। (কানযুল উম্মাল ১১ঃ৬১৩ )
৩- "আমি যার মওলা আলীও তার মওলা। হে আল্লাহ! যে আলীকে ভালোবাসে তুমি তাকে ভালোবাস আর যে আলীর সাথে শত্রুতা করে তুমি তার সাথে শত্রুতা করো"। (তিরমিজি শরিফ ৫ঃ৬৩৩ )।
৪- "আলী সবসময় হকের পথে থাকবে। আলীকে মুহব্বত করা ঈমান আর আলীর সাথে শত্রুতা করা মোনাফেকি"। (মুসলিম শরিফ ১ম খন্ড,পৃষ্ঠা নং ৪৮)।
৫- "আমি জ্ঞানের শহর আলী তার দরজা"। (তিরমিজি শরিফ ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ২০১) ।
৬- "আমি ও আলী একই নুরের দুই খন্ড। আলী যেদিকে মোড় নেয় আল্লাহর ধর্মও সেইদিকে মোড় নেয়। সত্য আলীর সাথে এবং আলী সত্যের সাথে। আলীর মূল্য আমার কাছে ততটুকু যতটুকু দেহের মধ্যে আমার প্রাণের মূল্য"।
৭- "আলী আমা হতে এবং আমি আলী হতে। আলী আমার দেহেরই একটি অংশ। যে আলীকে কষ্ট দেয় সে আমাকে কষ্ট দেয়। যে আলীকে ভালোবাসে সে আমাকে ভালোবাসে"। (মেশকাত শরিফ)।
৮- পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহ বলেন, "আমি আহলে বায়াতকে পুতঃপবিত্র করে প্রেরণ করেছি"।
৯- ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) বলেন, "আমি নীরব রয়েছি আমার গুপ্ত জ্ঞানের কারনে যা আমাকে দান করা হয়েছে। আমি এমন প্রভুর ইবাদত করি না যাকে আমি দেখি না "।
১০- সাহাবীরা বলতো, "আমরা মওলা আলীর প্রতি ঘৃণা দেখে মোনাফেকদেরকে চিনতাম"।
১১- ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা পবিত্র মক্কা ঘরে জন্মগ্রহণ করে আল্লাহর মেহমান হিসাবে জগতে আগমন করে।
১২- ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) প্রথম চোখ খুলে রাসূল পাক (দ.) কে দেখে এবং রাসূল পাক (দ)'র লালা মোবারক প্রথম খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে।
১৩- ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) জন্মের পর থেকেই রাসূল পাক (দ.)'র সাথে ছায়াসঙ্গী হিসাবে থাকতো। রাসূল পাক (দ.) কে একমুহূর্ত না দেখে থাকতে পারতো না। রাসূল পাক (দ.)'র সঙ্গে একসাথে ঘুমাতো।
১৪- মা খাদিজা (রা.) প্রথম ইসলাম কবুল করে এবং ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) তারপরে বংশে প্রথম (পুরুষ) ব্যক্তি হিসাবে ইসলাম কবুল করে। তখন মওলা আলীর বয়স ছিলো মাত্র ১০ বছর।
১৫- অন্যান্য সাহাবীরা ইসলাম গ্রহন করার পূর্বে মূর্তি পূজা এবং মদ খেয়ে মাতলামি করতো। কিন্তু ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) কখনো এর ধারেকাছেও যেতো না।
১৬- পাক পান্জাতনকে আল্লাহ তায়ালা প্রথম সৃষ্টি করলেন। তখন ফেরেশতা, গাছপালা, পানি, তরুলতা অর্থাৎ কোনকিছুই সৃষ্টি করেননি। ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) ছিলেন পাক পান্জাতনের অন্যতম সদস্য। ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) ছিলেন সৃষ্টিগতভাবে পুতঃপবিত্র। তাই ছৈয়দ মওলা আলী (কর.)’র দ্বারা কখনো বিন্দুমাত্র ভুল হয়নি। সমস্ত ভুলের উর্ধ্বে ছিলেন তিনি।
১৭- ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) ছিলেন জান্নাতদের যুবকদের সর্দার মওলা ইমাম হাসান ও হোসাইনের পিতা এবং মহিলাদের জান্নাতের সর্দারনি জগত জননী মা ফাতেমার স্বামী।
১৮- ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) ছিলেন রাসূল পাক (দ.) এর চরিত্রের মূর্ত প্রতিক। রাসূল পাক (দ)’র চরিত্রের সাথে হুবহু মিল ছিলো। অর্থাৎ মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
১৯- মুসলমানদের সাথে বিধর্মীদের ২৭ টি যুদ্ধের অগ্র সেনানী ছিলেন ছৈয়দ মওলা আলী (কর.)। ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) ছাড়া কোন যুদ্ধের বিজয় নাই।
২০- ছৈয়দ মওলা আলী (কর.)‘র সাথে অন্যকোন সাহাবীর কখনো তুলনা হবে না। কারণ তিনি ছিলেন পাক পান্জাতনের অন্যতম সদস্য।
ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) মদ খাওয়া মানে রাসূল পাক (দ.) মদ খাওয়া। কারণ জ্ঞানের দরজা যদি মদ খায় তাহলে কি আর জ্ঞানের শহরের বাকী থাকে। মওলা আলী এবং রাসূল পাক (দ.) ছিলেন অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। কারন রাসূল পাক (দ.) কখনো নিজেকে মওলা আলীর কাছ থেকে আলাদা করেননি। যা উপরের হাদিসগুলো জলন্ত উদাহরণ।
রাসূলে পাক (দ.) যেমন কখনো ভুল করেননি তেমনি ভাবে মওলা আলী কখনো ভুল করেননি। কারণ পাক পান্জাতন হলো সকল ভুলের উর্ধ্বে। তাই তাদেরকে কখনো ভুল স্পর্শ করতে পারেনি। তাহলে আল্লাহ নিজেই দোষী এবং মিথ্যাবাদী হয়ে যেতো। (নাউজুবিল্লাহ)। কারণ আল্লাহ তাদেরকে পবিত্র কোরআন শরীফে পুতঃপবিত্র হিসাবে ঘোষণা করেছেন।
জগতের প্রতিটি মানুষ ভুল করেই শিরক গোনাহে লিপ্ত হয়। কেউ কখনো জেনেশুনে বুঝে শিরক গোনাহ করে না। তাহলে বলুন ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) কিভাবে ভুল করে শিরক গোনাহ করতে পারে।
কতবড় মারাত্মক কথা 'গাউছিয়া তারবিয়াতী নিসাব', বার মাসের আমল ও ফজিলত' কিতাবে এবং মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব বলেছেন, আপনারা একটু চিন্তাভাবনা করুন। আজহারীর প্রতিটি কথাই মওলা আলীর শানে চরম বেয়াদবি।
ছৈয়দ মওলা আলী (কর.)’র শানে বেয়াদবি করা মানে রাসূল পাক (দ.)'র সাথে বেয়াদবি করা এবং রাসূল পাক (দ.) এর শানে বেয়াদবি করা মানে স্বয়ং আল্লাহর সাথে বেয়াদবি করা।
ওহে মুসলিম জাতি আমরা কি এতোই অজ্ঞ, বধির এবং অন্ধ হয়ে গেছি। সাধারণ বিবেক বোধটুকুও কি হারিয়ে ফেলেছি। এভাবে আর কতো পাক পান্জাতন এবং আল্লাহর সাথে বেয়াদবি করবো। আমি জানি না কবে মুসলিম জাতির বিবেকবোধ জাগ্রত হবে।
মহান আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত নসিব করুন। আমিন।
বিঃদ্রঃ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে মদ হালাল ছিলো। কিন্তু তাই বলে রাসূল পাক (দ.) এবং ছৈয়দ মওলা আলী (কর.) তাহা পান করেননি।
প্রবন্ধকার:
ছৈয়দ মশিউর রহমান রাহাত
নায়েবে মোন্তাজেম, চট্টগ্রাম দরবার শরীফ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, রাহে ভান্ডার ওলামা পরিষদ

2 Comments
এজিদী দোসরদের হতে মওলা হেফাজত করুন, আমীন
ReplyDeleteইয়া মওলা 🙏
ReplyDeletePost a Comment